আন্তর্জাতিক

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে ভারতের ত্রিপুরায় উন্নয়ন!

ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে আখাউড়া ও শ্রীমন্তপুর (কুমিল্লার বিবিরবাজার) পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজ চলছে জোরেশোরে। স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে। ফেনী নদীর রামগড় সীমান্তে ত্রিপুরা অংশে সেতু নির্মাণকাজেও হাত দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তারা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের চিন্তা মাথায় রেখেই এইসব উন্নয়ন করছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক, রেল, বিমান ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, ‘বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রামের সঙ্গে আমরা রেল, সড়ক, বিমান ও টেলিযোগাযোগ কানেকটিভিটি তৈরি করতে চাই। বাংলাদেশ সরকার এসব বিষয়ে উদার দৃষ্টিভঙ্গি দেখাচ্ছে। সম্পর্ক উন্নয়নের এটা প্রাকশর্ত। এসব হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও নিবিড় হওয়ার পাশাপাশি উন্নয়নের সিংহদুয়ার উন্মোচিত হবে।’
জানুয়ারির ৩১ তারিকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আগরতলার রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ত্রিপুরা সিপিএমের মুখপাত্র দৈনিক দেশের কথার সম্পাদক গৌতম দাশ।
বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমানে ত্রিপুরার বছরে ৩৫০ কোটি রুপির বাণিজ্য হয়। দিন দিন এই বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে ত্রিপুরা আশাবাদী। এ জন্য ত্রিপুরা সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত হাট এবং স্থলবন্দরের আধুনিকায়নের দিকে মনোযোগী হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
রাজ্য সরকার সূত্র জানায়, সেভেন সিস্টারের অংশ ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত ৮২৫ কিলোমিটার। তার সিংহভাগ রয়েছে চট্টগ্রামের সঙ্গে। ত্রিপুরা থেকে পশ্চিমবঙ্গে যেতে যেখানে তিন দিন সময় লাগে, সেখানে আখাউড়া কিংবা কুমিল্লার বিবিরবাজার সীমান্ত দিয়ে ঢাকা হয়ে কলকাতায় যাওয়া যায় দিনে দিনে। এসব কারণে বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রামের সঙ্গে বাণিজ্য সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে বলে মনে করছে ত্রিপুরা। আর এসব সম্ভব হবে চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহার করেই।
মুখ্যমন্ত্রী তাই বললেন, ‘হাসিনা-মনমোহন সিং দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে সমুদ্রবন্দরের সুযোগ, আশুগঞ্জ নদীবন্দরসহ অন্যান্য স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাণিজ্য সম্ভাবনা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরকে মাথায় রেখে আমরা রেলযোগাযোগ কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সাবরুম পর্যন্ত রেল নিয়ে যাচ্ছি।’
জানা গেছে, রামগড়ের ফেনী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে ত্রিপুরার সাবরুম থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে রেলযোগাযোগ বিস্তৃত করা যাবে বলে মনে করছে ত্রিপুরা। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সাবরুমের দূরত্ব ৭২-৭৪ কিলোমিটার।
এ ছাড়া আখাউড়া, শ্রীমন্তপুরসহ আরও ছয়টি স্থলবন্দর উন্নয়নকাজে হাত দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে আখাউড়া এবং শ্রীমন্তপুর স্থলবন্দর করে ফেলেছে ত্রিপুরা। কিন্তু বাংলাদেশের দিক থেকে এই দুটি বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনো হয়নি।
ভারত-বাংলাদেশের চুক্তির মাধ্যমে যে আগ্রহ–উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, তিস্তার পানি বণ্টন সংক্রান্ত দুই দেশের হিস্যা নিয়ে তা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারতের সিপিএমের এই নেতা বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ভিন্ন অবস্থান নেয়। ফলে ভারত সরকারের পক্ষে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখন নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দুই দেশের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তার তাল কেটে যায়। তবে কেন্দ্রীয় সরকার এটার মীমাংসা করার জন্য চেষ্টা করছে। দুই দেশের কিছু দেওয়া-নেওয়ার বিষয় থাকে। সেটা ঠিকঠাক না হলে বাংলাদেশ সরকারকেও তার দেশে বিরোধীদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’
তবে তিস্তার পানি বণ্টন সুরাহা হয়ে যাবে বলে মত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা হলে অন্যান্য দেওয়া–নেওয়ার বিষয়ের পথও প্রশস্ত হবে বলে তিনি মনে করেন।
এ ছাড়া ঢাকা-আগরতলা-চট্টগ্রাম বিমান যোগাযোগ এবং কক্সবাজারের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারতের এই রাজ্য সরকার। মানিক সরকার বলেন, ‘বিমান, রেল ও স্থলপথের যোগাযোগের পাশাপাশি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে কক্সবাজারের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে চাই আমরা। এতে দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক আরও উন্নত হবে। শিল্প-বাণিজ্যের একটি অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

Leave a Comment